Opens in a new tab
সর্বশেষ

খাবার খাওয়ার সাথে ঘুষও খাচ্ছেন রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার

ANJUMAN AARA 20260805Web Popup (3)

জমির দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন ও রেকর্ড–সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে আসা সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। এমনকি অফিস চলাকালীন খাবার খাওয়ার সময়ও ঘুষের টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে এমন চিত্র উঠে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ জমিজমা–সংক্রান্ত নানা সেবা নিতে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে আসেন। কিন্তু সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে দিনের পর দিন কাজ এগোয় না। দ্রুত সেবা কিংবা প্রয়োজনীয় নথি পেতে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয় তাঁদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই রেজিস্ট্রার অফিসে একটি অসাধু চক্র ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ বা অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে অযথা কালক্ষেপণ করা হয়। ভোগান্তি ও হয়রানির ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না, যার ফলে বছরের পর বছর ধরে অনিয়মের এই সংস্কৃতি নির্বিঘ্নে চলে আসছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গোপন ক্যামেরার ওই ভিডিওতে দেখা যায়, খাবার খাওয়ার সময়ও তিনি টেবিলে বসে টাকা গ্রহণ করছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা বলেন, তিনি খাবার খাওয়ার সময় এক ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল তোলার জন্য তাঁর কাছে আসেন। ওই ব্যক্তি চারটি নকলের সরকারি ফি বাবদ চার হাজার টাকা দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি কোনো অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন।

এদিকে, রেজিস্ট্রার অফিসে প্রকাশ্যে এমন ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, কেউ সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকলে এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup