Opens in a new tab
সর্বশেষ

যে কারণে চাইলেও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিতে পারবে না ইরান

Homuz 20260409Web Popup (3)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে চাইলেও আপাতত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় সচল করতে পারছে না দেশটি। এর নেপথ্যে রয়েছে খোদ ইরানি বাহিনীর পাতা অসংখ্য জলমাইন। যুদ্ধের সময় প্রণালির বুকে পেতে রাখা এই মাইনগুলোর অবস্থান এখন নিজেরাই শনাক্ত করতে পারছে না তেহরান, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই নৌপথের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ছোটো রণতরীর সাহায্যে এসব মাইন স্থাপন করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এই জলপথটিতে অত্যন্ত এলোমেলোভাবে মাইন পুঁতেছিল। এর অনেকগুলোরই কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা রেকর্ড রাখা হয়নি। আর যেসব এলাকার মাইনের তথ্য আইআরজিসি সংরক্ষণ করেছিল, সমুদ্রের স্রোতে সেগুলোর বেশিরভাগই আগের অবস্থান থেকে সরে গেছে। ফলে মাইনগুলো কোথায় ভেসে বেড়াচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা এখন খোদ ইরানি বাহিনীর কাছেই নেই।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছিল তেহরান। কিন্তু নিজেদের পাতা মাইনের কারণে সৃষ্ট এই বিপত্তির ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জলপথটি নিরাপদ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আইআরজিসি। সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভাসমান মাইনের সাথে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এড়াতে এই প্রণালির বদলে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল জাহাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের সংযোগকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালি গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই প্রণালির গুরুত্ব আরও ব্যাপক। কারণ, এই তিন দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই জলপথে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup