সর্বশেষ

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

ImageProbashir city Popup 19 03

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় ইরানের প্রায় ২৭০ বিলিয়ন (২৭ হাজার কোটি) ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে সৃষ্ট বিপুল আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ে এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনার আগে এই ক্ষতিপূরণ ইস্যুটিকে প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে এনেছে ইরান সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উভয় পক্ষের বৈঠকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নয়, হামলায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ আরব দেশের কাছেও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, হামলায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের ভূখণ্ড এবং আকাশসীমা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের সামরিক ঘাঁটি, তেল-গ্যাস স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক ভবনের মতো বেসামরিক স্থাপনাও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে, যা পুনরায় ব্যবহারোপযোগী করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে।

408027সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, অন্তত ৬০টি যাত্রীবাহী বিমান অচল হয়ে গেছে, যার মধ্যে ২০টি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। এদিকে, বর্তমানে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার ঘোর বিরোধিতা করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রলম্বিত করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে আরও বড় পরিসরে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে।

Download

বিপুল এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অভিনব এক প্রস্তাবও সামনে এনেছে ইরান। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর বিশেষ কর আরোপের মাধ্যমে একটি ‘ক্ষতিপূরণ তহবিল’ গঠনের পরিকল্পনা করছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে কর আরোপের মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই বিপুল ক্ষতিপূরণ দাবি এবং অনড় অবস্থান আগামী দিনে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03