সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সৌদির আরও দুটি বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় খনিজ তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় ড্রোন ও মিসাইল হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। তবে এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা একটি ড্রোন সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) দিনের প্রথম ভাগে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার কথা জানায় জিএসিএ। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হলেও তাঁদের সংখ্যা বা আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন বার্তায় দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের এই হামলা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এর ফলে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দাম্মাম ও রিয়াদ বিমানবন্দর ছাড়াও আরামকোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শেডগাম গ্যাস প্ল্যান্ট এবং তানাজিব তেল স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেন তিনি। ইয়েমেনে সৌদি জোটের চলমান বিমান হামলার জবাবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান ইয়াহিয়া সারি। একই সঙ্গে আগামী দিনে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে এমন আরও বড় ধরনের হামলার কড়া হুমকি দিয়েছেন হুতিদের এই সামরিক মুখপাত্র।









