সৌদি আরবের মক্কায় কর্মস্থলে ছয়তলা ভবনের ওপর থেকে মাথায় কাঠের তক্তা পড়ে ফয়সাল মিয়া (৩০) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তিনি মারা যান। নিহত ফয়সাল কটিয়াদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নামা বোয়ালিয়া এলাকার মৃত মো. চান মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মক্কার একটি কোম্পানিতে কর্মরত ফয়সালের মাত্র ১০-১৫ দিনের মধ্যেই ছুটিতে দেশে ফেরার কথা ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ ওপর থেকে একটি ভারী কাঠের তক্তা ফয়সালের মাথায় পড়ে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ফয়সালের মৃত্যুতে স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে অকালে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা।
নিহতের বড় ভাই মো. সজল মিয়া জানান, দুর্ঘটনার আগের রাতেও ফয়সালের সঙ্গে পরিবারের সবার কথা হয়েছিল। আগামী মাসের ৬ তারিখে তাঁর দেশে ফেরার দিনক্ষণ চূড়ান্ত ছিল। শেষ ফোনালাপে পরিবারের সবাইকে ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে মিলেমিশে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। আক্ষেপ করে সজল মিয়া বলেন, ‘ভাই বলেছিল দেশে ফিরবে, কিন্তু এখন তাকে ফিরতে হচ্ছে মরদেহ হয়ে।’ তিনি দ্রুত ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং অসহায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ বিবেচনায় আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
আরও
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার এই মৃত্যুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তবে আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার ওপরই মরদেহ ফেরার সময় নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।










