ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ও ব্যাপক হামলা ঠেকাতে গিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, হুতিদের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করতে গিয়ে সৌদি আরবের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের (ইন্টারসেপ্টর) মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সম্প্রতি রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের টানা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম চাপের মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল আয়তনের দেশ সৌদি আরবের গোটা আকাশসীমা সমানভাবে সুরক্ষিত রাখা রিয়াদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসায় কৌশলগত কারণে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হচ্ছে দেশটি। বিশেষ করে জাতীয় অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং রাজপ্রাসাদগুলোর সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দেশের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নতুন করে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে।
হুতিদের একের পর এক নিখুঁত ড্রোন ও মিসাইল হামলার কারণে সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদির যুবরাজ ও ডি ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে তিনি বাংকার সুবিধাযুক্ত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন রাজপ্রাসাদের মধ্যে যাতায়াত করছেন। এ সময় তাঁর সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকছেন কেবল বিশেষভাবে বাছাই করা বিশ্বস্ত ও এলিট নিরাপত্তাকর্মীরা।
আরও
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মাম বিমানবন্দর এবং আরামকোর বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হুতিদের হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অভিযানের জবাবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে আসছে হুতিরা। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে আসার এই খবর রিয়াদের জন্য একটি বড় সামরিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল









