মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও সুসংহত করতে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ। রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও সুগভীর অংশীদারত্বের এক বাস্তব প্রতিফলন এই দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ। দেশ দুটির মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা খাতে যে নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বিদ্যমান, সাম্প্রতিক এই সফরের মধ্য দিয়ে তা আরও একবার স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের পাশাপাশি প্রতিনিধিদলে ছিলেন সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির মহাসচিব আলী আল শামসি এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান আলী আল নেয়াদিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। উপসাগরীয় কূটনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভ্রাতৃপ্রতিম এই দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত এই ধরনের সফর বিনিময় হয়ে থাকে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানকে সমন্বিত ও সুদৃঢ় করা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যৌক্তিক। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে প্রভাব বিস্তারের চেয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সম্মিলিত শক্তি ও চাপ প্রয়োগ অধিকতর কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারে। অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে রিয়াদ ও আবুধাবির এই যৌথ পদচারণা মধ্যপ্রাচ্যে পারস্পরিক সমঝোতা, ঐক্য এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি নতুন ও শক্তিশালী প্রক্রিয়ার সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








