ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরে অন্তত তিনটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগে আরামকোর তেল শোধনাগার এবং খামিস মুশাইত ও আকিফার সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এসব হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হুতিরা আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে পবিত্র মক্কা ও মদিনা বাদে সৌদির আকাশসীমা এড়িয়ে চলার কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। নির্দেশ অমান্য করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা।
হুতিদের এসব হামলার কড়া জবাব দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। দক্ষিণ লোহিত সাগরে হুতিদের সম্ভাব্য হামলা নস্যাৎ করতে ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশে নৌ অভিযান চালিয়ে জোট বাহিনী অস্ত্রের গুদাম, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা এবং বেশ কিছু সামুদ্রিক মাইন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, হুতিদের হটিয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনী। হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখল করতে বর্তমানে ১০০টি যুদ্ধবিমানের সহায়তায় ‘অপারেশন ইয়েমেন ডন’ নামে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চলছে। এই অভিযানে ইতিমধ্যে ৩২৪টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি জোট।
ইয়েমেন ঘিরে চলমান এই বহুমাত্রিক উত্তেজনার মধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে মিত্র দেশগুলো। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর যৌথ চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সৌদিতে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে এই তিন দেশের দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক সমীকরণে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
আরও
সূত্র: শাফাক নিউজ








