কৌশলগত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি ‘নিরাপদ’ করিডর বা পথ গঠনে একমত হয়েছে এর দুই তীরের দেশ ইরান ও ওমান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত এই জলপথে নৌ চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে গৃহীত একটি পর্যায়ক্রমিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই এই সমঝোতা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে ইসমাইল বাঘাই জানান, করিডরগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে এসব রুট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। এর আগে গত আগস্ট মাসে হরমুজে একটি অস্থায়ী নৌ চলাচলের পথ তৈরি, মাইন অপসারণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাসহ একটি স্থায়ী পথ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল এই দুই দেশ। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্থায়ী পথটি সাত মাইল প্রশস্ত হবে, যার প্রবেশ ও বহির্গমনের একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে।
তবে এই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ও শর্তহীনভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে তেহরান বারবার বলে আসছে যে এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওমানের সঙ্গে নিরাপদ চলাচলের পথের বিষয়ে ঐকমত্যের কথা নিশ্চিত করলেও, প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
আরও
অন্যদিকে, এই চুক্তির মধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর এলিট শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির সর্বাধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি ঘোষণা দেন, তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচিত হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলের পথগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ সময় তিনি ওমানের উপকূল ঘেঁষে থাকা বিকল্প দক্ষিণ নৌপথটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইরানের ভূরাজনৈতিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এই প্রণালি আইআরজিসির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ‘বন্ধ’ অবস্থায় থাকবে। মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবির সরাসরি পাল্টা জবাব হিসেবেই এমন মন্তব্য করেছেন আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।










