ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেওয়ায় যুক্তরাজ্য এবং তিন মুসলিম দেশ—তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূয়সী প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আজ রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দেশগুলোর সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করার অভিযান শুরুর পর ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছিল। মিত্র দেশগুলোর তৎপরতায় তাদের সেই প্রচেষ্টা এখন আলোর মুখ দেখছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তুরস্ক ও ওমান তাদের দেশে ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর সব ফ্লাইটের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। শুধু বিমান চলাচল বন্ধই নয়, দেশগুলোর শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে। এই তিন দেশ ছাড়াও আজারবাইজান ও জর্জিয়ার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ইরানি ক্যারিয়ারের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। একই পথে হেঁটে ইরাকও তাদের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে।
যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, তেহরান যাতে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে এখনো অনেক কাজ বাকি এবং মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াই চালিয়ে যাবে। মূলত, বিমান খাতসহ বিভিন্ন খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মার্কিন কৌশলের অংশ হিসেবেই দেশগুলো এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক দেশগুলোর এমন সিদ্ধান্তকে আমেরিকার প্রতি ‘আনুগত্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর এমন কঠোর অবস্থানের কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট আগামীতে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।











