দীর্ঘ একুশ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে নিজেদের শেষ ঘাঁটিগুলোও গুটিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামীকাল বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যেই দেশটিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের এই দীর্ঘ সামরিক অভিযানে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানকে নিজেদের বিশাল এক ভূরাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে প্রতিবেশী ইরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। এরপর দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গত ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সেনা প্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পূর্ববর্তী সরকারের সেই সিদ্ধান্তই এখন বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
মার্কিন বাহিনীর এই বিদায়ে ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে এটিকে তারা ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে আখ্যা দিলেও স্থানীয় সুন্নি নেতাদের মধ্যে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর বিদায়ে তৈরি হওয়া শূন্যতার সুযোগে ইরাকে তেহরানের প্রভাব আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে। তাছাড়া ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এখনো এককভাবে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বলেও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরও
https://www.youtube.com/watch?v=8VVITAUfhp8











