দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা বা হামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। বুধবার সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। যুবরাজ স্পষ্ট করে বলেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না; তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে রিয়াদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো এ অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে যুবরাজ জানান, উপসাগরীয় অংশীদারদের পাশাপাশি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যৌথ নিরাপত্তার একটি বড় উদাহরণ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নৌপথকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা রুখতে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ। ভাষণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় বৈধ সরকারের প্রতি সমর্থন এবং সুদানের অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অভাবনীয় চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ‘ভিশন ২০৩০’–এর আওতাভুক্ত লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশই ইতিমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। গত এক দশকে তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করে যুবরাজ ২০২৬ সালকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বছর’ বা ‘এআই বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বাড়িয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক নেতৃত্বে পৌঁছানোই এখন সৌদি আরবের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।










