গতকাল সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল স্থাপনায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ ও ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এ ধরনের আগ্রাসনের কড়া জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ও সক্ষমতা আমিরাতের রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি ও বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত সোমবার উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ প্রদেশে এই আকস্মিক হামলা চালায় ইরান। ফুজাইরাহ এমিরেতে অবস্থিত ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই বিশাল শিল্পাঞ্চলে একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার এবং একাধিক জ্বালানি ডিপো রয়েছে। কৌশলগতভাবে এই শোধনাগারটি আমিরাতের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।
আরও
গতকাল এক বিবৃতিতে ফুজাইরাহ এমিরেতের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে ইরানের ড্রোন হামলার পরপরই সেখানে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিন জন আহত হয়েছেন এবং তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক। আহতদের আঘাত মাঝারি মাত্রার এবং তাঁদের সবাইকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তেল স্থাপনার নিজস্ব কর্মী এবং সিভিল ডিফেন্স বা বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সাহসী তৎপরতায় অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ড্রোন হামলার পাশাপাশি চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গতকাল ড্রোন হামলার ঠিক আগেই ইরান থেকে আমিরাতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একযোগে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে আমিরাতের বিমানবাহিনী অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনটিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো না গেলেও সেটি সরাসরি সাগরে পতিত হয়। এই ব্যর্থ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই মূলত তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাটি চালিয়েছিল ইরান।







