উত্তেজনা আরও বাড়লে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সব ধরনের স্বার্থ যেকোনো সময় লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এক শীর্ষ সামরিক সূত্র থেকে প্রকাশ্যে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই কড়া হুঁশিয়ারির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে, তাদের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই ভয়াবহ হামলাগুলো প্রতিহত করতে সার্বক্ষণিকভাবে ও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। মূলত এই হামলার ঘটনার পরপরই দুই দেশের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মাত্রা চরম আকার ধারণ করে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই হামলায় ইরান থেকে আমিরাতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একযোগে মোট চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে আমিরাতের সামরিক বাহিনী সফলভাবে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি সাগরে গিয়ে পড়ে। এই ব্যর্থ হামলার পরই ইরানের ওই সামরিক সূত্র দম্ভভরে দাবি করেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে কৌশলগতভাবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি অবস্থানে রয়েছে এবং নতুন করে যেকোনো উত্তেজনা তৈরি হলে তা তাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
আরও
এদিকে, ইরানের এমন প্রকাশ্য হুমকি ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইউএই প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানের এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তেহরান আবারও তাদের আগ্রাসনের পুরোনো পথই বেছে নিয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও মন্তব্য করেন যে, সামরিক সংঘাতের মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর এই চেষ্টা মূলত ইরানের চরম ‘নৈতিক দেউলিয়াত্ব’-এরই অকাট্য প্রমাণ।








