প্রায় আড়াই দশক পর ভিডিও কলের মাধ্যমে জন্মদাত্রী মায়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা হলো সারা নামের এক তরুণীর। সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সারা এবং ভিয়েতনামে থাকা তাঁর মায়ের দীর্ঘ ২৪ বছর পর ঘটা এই অভাবনীয় পুনর্মিলনের মুহূর্তটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। কাঁটাতার ও হাজারো মাইলের দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রযুক্তির কল্যাণে মা-মেয়ের এই আবেগঘন সাক্ষাতের দৃশ্য বিশ্বের লাখো নেটিজেনের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পর্দার ওপারে প্রথমবারের মতো মায়ের মুখ ভেসে উঠতেই সারা আবেগে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর দুই চোখ বেয়ে অঝোরে পানি ঝরতে শুরু করে। দীর্ঘ ২৪ বছরের না-দেখা শূন্যতা, মনের ভেতর জমে থাকা অসংখ্য প্রশ্ন আর মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হওয়ার যে তীব্র হাহাকার ছিল, তা যেন সেই একটি মুহূর্তেই কান্নার বাঁধ ভেঙে প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে, সুদূর ভিয়েতনামে থাকা মা-ও দীর্ঘ আড়াই দশক পর নিজের হারানো সন্তানকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভৌগোলিকভাবে দুই ভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করলেও তাঁদের এই চোখের জল ও আবেগ যেন সব দূরত্বকে অতিক্রম করে একবিন্দুতে এসে মিলে যায়। তবে মা-মেয়ের মধ্যে একটি বড় ভাষাগত ব্যবধান থাকায় প্রথমদিকে ভাব বিনিময়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। পরে সারার পাশে থাকা এক ব্যক্তি অনুবাদের মাধ্যমে তাঁদের কথোপকথনে সহায়তা করেন, যার ফলে তাঁরা একে অপরের মনের কথা বুঝতে সক্ষম হন।
আরও
View this post on Instagram
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এই অভাবনীয় পুনর্মিলনের পেছনের চমকপ্রদ ও দীর্ঘ সংগ্রামের গল্পটিও জানা গেছে। মূলত সারার কাছে থাকা ছোটবেলার কিছু পুরোনো ছবি ও অস্পষ্ট স্মৃতির সূত্র ধরেই এই দীর্ঘ অনুসন্ধানের শুরু হয়েছিল। ভিয়েতনামের বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন ব্যাপক খোঁজখবর চালিয়ে এবং বিভিন্ন মানুষের সহায়তায় অবশেষে এই অসাধ্য সাধন হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর প্রচেষ্টার পর মায়ের খোঁজ মেলার এই ঘটনা যেন প্রমাণ করে দিল, রক্তের টান শত বাধা ও দূরত্বের মাঝেও অমলিন থাকে।










