টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রাম বর্তমানে এক অদ্ভুত ও চরম সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্রামটির প্রধান সড়কের মাঝখানে থাকা একটি খালের ওপর কোনো সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই বিপর্যস্ত। বছরের বেশির ভাগ সময়ই স্থানীয়দের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হয়, যা বর্ষাকালে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যাতায়াতের এই অবর্ণনীয় কষ্টের কারণে বাইরের কোনো এলাকার মানুষ এই গ্রামের কারও সঙ্গে আত্মীয়তা বা বিয়ের সম্পর্ক পর্যন্ত স্থাপন করতে চায় না বলে আক্ষেপ করে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশার কারণে গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কাদাপানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে অনেক সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া কোনো ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করতে না পারায় স্থানীয়দের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাঁটা পথ অথবা ঘোড়ার গাড়ি। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয় জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ঠিকমতো বাজারজাত করতে না পারায় স্থানীয় কৃষকেরাও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আরও
বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। চাঁনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, কর্দমাক্ত রাস্তায় পিছলে পড়ে প্রায়ই মানুষ আহত হয়, আর অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হলে বিপদের কোনো সীমা থাকে না। অপর বাসিন্দা রাবেয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন করুণ দশা দেখেই অনেকে এই গ্রামে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সড়ক ও সেতু নির্মাণের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচন শেষে কেউ আর এই অবহেলিত গ্রামটির কোনো খোঁজ রাখেন না।
গ্রামবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্দশার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন অবগত থাকলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান সমাধান মেলেনি। মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। অন্যদিকে, নাগরপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ এই কাঙ্ক্ষিত সেতু ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা আর হতাশার মধ্য দিয়েই দিন পার করছেন চাঁনপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।











