সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরাহ শিল্প এলাকার তেল স্থাপনায় রোববারের ড্রোন ও মিসাইল হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, আমিরাতের ভূখণ্ডে চালানো এই হামলা কোনোভাবেই ইরান থেকে বা তাদের মদদে পরিচালিত হয়নি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইরানের এই জোরালো অস্বীকৃতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালানোর কোনো প্রকার সামরিক পরিকল্পনাই বর্তমানে ইরানের নেই। সামরিক সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এসব ড্রোন বা মিসাইল ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া হয়নি বা ইরান থেকে আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তুও করা হয়নি। উল্টো ইরানের দাবি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ নষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ এই ধরনের সাজানো হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। এর আগেও পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোর বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ভিত্তিহীন অভিযোগ একইভাবে নাকচ করেছিল তেহরান।
এর আগে, গতকাল সোমবার (৪ মে) বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে অভিযোগ করেছিল যে, দেশজুড়ে ইরান থেকে ছুটে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, একটি ড্রোন আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় ফুজাইরাহ প্রদেশের একটি পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় আকস্মিক আগুন ধরে যায়। তবে ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস জানায়, ঘটনার পরপরই সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সিভিল ডিফেন্সের দল মোতায়েন করে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আরও
এই হামলার পাল্টাপাল্টি দাবির প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে বিরাজমান বৃহত্তর সংঘাতের পুরোনো ইতিহাসটিও নতুন করে সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধের জবাবে ইরান যখন পাল্টা হামলা শুরু করেছিল, তখন আরবের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল এই সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরিসংখ্যান বলছে, একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে দেশটিতে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল। ফলে নতুন করে এই হামলার অভিযোগ এবং অস্বীকারকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে ফের চরম অস্থিতিশীলতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।







