ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে তাদের এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব স্থাপনায় ‘দ্রুত ও বেদনাদায়ক’ হামলা চালানোর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর শীর্ষ সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন। এ বিষয়ে দীর্ঘ কোনো আলোচনার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোকে নিজেদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে এসব এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন এই হুতি নেতা।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনায় হুতিদের হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বুখাইতি জানান, সৌদি আরবের ভেতরে এসব মুহুর্মুহু হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির যুবরাজ ও ডি-ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই বার্তা দেওয়া যে, নিরাপদ অবস্থানে থেকে ইয়েমেনের ওপর আর একতরফা আগ্রাসন চালানো যাবে না। হুতিদের দাবি, গত সোমবার রাতেও রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে তারা নতুন করে হামলা চালিয়েছে; তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া আরও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করেছে সৌদি জোট।
গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। উল্লেখ্য, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের নজিরবিহীন হামলায় ১৩ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন, যা গত এক দশকের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ফ্রান্স২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়াবহ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টিও এখন ওয়াশিংটনের বিবেচনায় রয়েছে।









