সৌদি আরবের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানা এই হামলায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ৬২০ মাইলের বেশি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই প্রাণঘাতী হামলা কেন রাডারে ধরা পড়ল না বা প্রতিহত করা গেল না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার এই ব্যর্থতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুপরিকল্পিত এই হামলায় হুতিরা এক অভিনব সামরিক কৌশল ব্যবহার করেছে। তারা প্রথমে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন নিক্ষেপ করে সৌদি রাডার ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখে, যা মূলত ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জন্য রিয়াদে পৌঁছানোর একটি নিরাপদ করিডোর তৈরি করে দেয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে এখন এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলো উড্ডয়নকালেও নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলে, প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে মাঝপথে এগুলোকে আটকে দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামরিক এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি হুশিয়ার করে বলেন, আমেরিকা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই অঞ্চলে থাকা তাদের সব স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় দ্রুত ও বেদনাদায়ক পাল্টা হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোকে এখন থেকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানকার কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
আরও
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েমেন যুদ্ধের সমীকরণ যে ক্রমশ জটিল হচ্ছে, রিয়াদের সুরক্ষিত দুর্গে এই হামলাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বুখাইতির মতে, রিয়াদের প্রাণকেন্দ্রে এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া— ইয়েমেনের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে তিনি নিজেও আর নিরাপদ আবাসে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা ও আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।









