ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় আধা কেজি সোনারংকার ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ মফিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরের আগমনী ক্যানোপি-২–এর বাইরের খোলা গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
বিমানবন্দর এপিবিএন সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার মফিদুল ইসলাম পেশায় ওমরাহ হজ কাফেলার একজন মোয়াল্লেম। আজ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি আরব থেকে আসা একটি ফ্লাইটে (এসভি-৮০৮) তিনি ঢাকায় অবতরণ করেন। এরপর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ক্যানোপি-২–এর পার্কিং এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সুকৌশলে পালানোর চেষ্টা করেন। সন্দেহ হওয়ায় এপিবিএন সদস্যরা তাঁকে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন। তাঁর বাড়ি খুলনার লবণচরা থানা এলাকায়।

আরও
পরে মফিদুলকে এপিবিএন কার্যালয়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা হাতব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে প্রায় ৪৯৯ দশমিক ১ গ্রাম ওজনের ২১ ক্যারেট সোনারংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮০ টাকা। সোনার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ৯ হাজার মার্কিন ডলার, ৮ হাজার ৫০১ সৌদি রিয়াল, ১ হাজার ৮০০ মিসরীয় পাউন্ড, ১৫০ রোমানীয় লিউ এবং বাংলাদেশি নগদ ৮০ হাজার ১১৭ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মফিদুল ইসলাম পুলিশকে জানান, উদ্ধার হওয়া এসব সোনা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অজ্ঞাত যাত্রীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং মূলত চক্রের ‘রিসিভার’ বা গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় মফিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সোনা নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিমানবন্দর থানায় আজ একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অপরাধ দমনে এপিবিএন সব সময়ই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সোনা ও মাদক চোরাচালান রোধে তাঁদের এই কঠোর নজরদারি ও আইনি কার্যক্রম আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।




![]](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/unnamed-file-1.webp)




