Opens in a new tab
সর্বশেষ
ব্রেকিং

প্রবাসীর ১২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালালেন স্ত্রী

GKWeb Popup (3)

ভালোবাসার আড়ালে গোপন সম্পর্ক এবং অবশেষে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে উধাও—যশোরে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর সাজানো সংসার ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী ইশিতা আক্তারের (২৮) বিরুদ্ধে দুই সন্তানসহ পালিয়ে যাওয়া এবং স্বামীর জমানো লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে পুলিশের কাছে। যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ও প্রবাসীর বয়োবৃদ্ধ পিতা কেরামত আলী গাজী (৮৩) বাদী হয়ে সম্প্রতি কোতোয়ালি মডেল থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।

পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেরামত আলীর ছেলে মুরশিদ গাজী পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত প্রায় আড়াই বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী ইশিতা তাঁর দুই সন্তান ওমর (৮) ও ইউসুফকে (৩) নিয়ে শহরের শেখহাটি হঠাৎপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইশিতার জীবনযাপনে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। অবাধ চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার একপর্যায়ে স্থানীয় ভেকুটিয়া এলাকার যুবক সোহেল রানার সঙ্গে তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে প্রেমিক সোহেলকে তিনি আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি ইশিতার মা আকলিমা খাতুনের প্ররোচনায় প্রায় দেড় বছর আগে গোপনে তাঁরা বিয়েও করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এই গোপন সম্পর্কের নাটকীয় মোড় আসে গত ২২ এপ্রিল। ওই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শ্বশুর কেরামত আলী গাজী পুত্রবধূর ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখতে পান মূল দরজায় তালা ঝুলছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একসময় তিনি জানতে পারেন, ইশিতা তাঁর দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রেমিক সোহেল রানার হাত ধরে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যাওয়ার সময় তাঁরা শুধু সংসারই ভাঙেননি, প্রবাসীর কষ্টার্জিত বিশাল অঙ্কের সম্পদও লুটে নিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিদেশে যাওয়ার আগে মুরশিদ স্ত্রীর কাছে প্রায় ৭ লাখ নগদ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার রেখে গিয়েছিলেন এবং পরে বিদেশ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এই সমুদয় ১২ লাখ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়েই ইশিতা উধাও হয়েছেন।

ঘটনার পর সামাজিকভাবে ও স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা করার কয়েক দফা চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইশিতা বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেয় প্রবাসীর পরিবার। এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ গণমাধ্যমকে জানান, প্রবাসীর পিতার দেওয়া লিখিত অভিযোগটি তারা হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)