Long Popup (2)
সর্বশেষ

বিমানে করে মরদেহ আনা হয় কীভাবে

Sa 125.1777815745ProbashircityWebPopupUpdate

প্রবাসীদের মৃত্যু হলে সাধারণত মরদেহ তার নিজ দেশেই নেওয়া হয়। কিন্তু, মরদেহ বিমানযোগে কীভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠানো হয়? কী কী কাগজপত্র লাগে, কোন ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয় এবং আনুমানিক খরচ কেমন হয়—তা জানা থাকা ভালো।

মৃত্যুর পর মরদেহকে যত দ্রুত সম্ভব এক শহর বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে বিমানই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ মাধ্যম। তবে, এর সঙ্গে জড়িত আছে স্বাস্থ্যবিধি, আইনগত অনুমোদন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন এবং এয়ারলাইন্সের নির্দিষ্ট নীতিমালা। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কেন বিমানে মরদেহ পরিবহন করা হয়?
দূরত্ব বেশি হলে সড়ক বা নৌপথে মরদেহ পরিবহন সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সে কারণে দেশে-বিদেশে মরদেহ দ্রুত পৌঁছে দিতে বিমান পরিবহন ব্যবস্থাই বেশি ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় “রিপ্যাট্রিয়েশন অব মোর্টাল রিমেইনস”—অর্থাৎ মরদেহ নিজ দেশ বা গন্তব্যে ফেরত পাঠানো।

মৃত্যুসনদ ও প্রাথমিক অনুমোদন
বিমানযোগে মরদেহ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো মৃত্যুসনদ। এটি অবশ্যই হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিতে হয়।
আরও প্রয়োজন হয়—
• স্থানীয় থানার অনাপত্তিপত্র (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/এনওসি)।
• স্বাস্থ্য বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন।
দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয় না।

এমবাম্বিং: মরদেহ সংরক্ষণের বাধ্যতামূলক ধাপ
এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ রাসায়নিক তরল ব্যবহার করে দেহ সংরক্ষণ করা হয়, যাতে—
• দুর্গন্ধ না ছড়ায়।
• দীর্ঘ সময় নিরাপদে পরিবহন সম্ভব হয়।
• সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে।
বিমানযোগে পরিবহনের আগে প্রায় সব দেশেই মৃতদেহ এমবাম্বিং করা বাধ্যতামূলক। এমবাম্বিং সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা অনুমোদিত সংস্থা থেকে এমবাম্বিং সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যা ছাড়া এয়ারলাইন্স মরদেহ গ্রহণ করে না।

কফিন ও সিলিং: নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি
পরবর্তী ধাপে মরদেহ বিশেষ ধরনের কফিনে রাখা হয়। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী—
• কফিন শক্ত ও এয়ারটাইট হতে হবে।
• কফিন সম্পূর্ণভাবে সিল করা থাকতে হবে।
• বাইরে কাঠের বা ফাইবারের আবরণ দেয়া হয়।
• ভেতরে জিঙ্ক বা ধাতব লেয়ার থাকতে হয়।
এই ধাপ সম্পন্ন হলে কফিন সিলিং বা প্যাকেজিং সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
বিমানযোগে মরদেহ পরিবহনের জন্য সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হয়—
১. মৃত্যুসনদ।
২. মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
৩. কফিন সিলিং সার্টিফিকেট।
৪. পুলিশের অনাপত্তিপত্র।
৫. এমবাম্বিং সার্টিফিকেট।
৬. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের অনুমোদন।
৭. গ্রহণকারী ব্যক্তির পরিচয়পত্র।
সব নথি সাধারণত ইংরেজিতে হতে হয়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিবহনের ক্ষেত্রে।

যাত্রী নয়, কার্গো হিসেবে পরিবহন
প্রায় সব এয়ারলাইন্সই মৃতদেহকে যাত্রী নয়, কার্গো হিসেবে পরিবহন করে। এয়ারলাইন্সগুলোর নীতিমালা সাধারণত যেমন হয়—
• নির্দিষ্ট মাপ ও ওজনের কফিন ব্যবহার করতে হবে।
• মৃতদেহ আলাদা কার্গো হোল্ডে রাখা হবে।
• সব কাগজপত্র আগে থেকে যাচাই করা বাধ্যতামূলক।
• ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ৩–৪ ঘণ্টা আগে কার্গো টার্মিনালে জমা দিতে হবে।
কিছু এয়ারলাইন্স মৃতদেহ পরিবহনে ছাড় বা বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে, তবে সেটি নির্ভর করে এয়ারলাইন্সের নিজস্ব নীতিমালার ওপর।

বিমানবন্দরে প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়?
মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর—
১. কার্গো অফিসে সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়।
২. যাচাই শেষে এয়ার ওয়ে বিল তৈরি করা হয়।
৩. নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর কফিন লোড করা হয়।
৪. ফ্লাইটের কার্গো হোল্ডে সংরক্ষিত অবস্থায় পরিবহন করা হয়।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর একইভাবে কাগজপত্র দেখিয়ে মরদেহ গ্রহণ করতে হয়।

খরচ যেমন হতে পারে
দূরত্ব, দেশ, এয়ারলাইন্স এবং সার্ভিসের ওপর মৃতদেহ পরিবহনের খরচ নির্ভর করে।

দেশের ভেতরে
• এমবাম্বিং : ৫,০০০–১৫,০০০ টাকা।
• কফিন : ১০,০০০–২৫,০০০ টাকা।
• এয়ার কার্গো বিল : ১০,০০০–৩০,০০০ টাকা।
মোট আনুমানিক খরচ : ৩০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে
দেশের বাইরে থেকে মরদেহ আনাটা ব্যয়বহুল ব্যপার। উপরে উল্লেখিত খরচ ছাড়াও দূতাবাস ফি, কাস্টমস চার্জ ও অতিরিক্ত কাগজপত্রের খরচসহ সাধারণত ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

শেষ কথা
বিমানযোগে মরদেহ পরিবহন একটি সংবেদনশীল ও কঠিন প্রক্রিয়া। সামান্য ভুল বা কাগজপত্রের কমতিতে পুরো যাত্রাই আটকে যেতে পারে। তাই আগেই সব নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate