Long Popup (2)
সর্বশেষ

রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের

Tangail nazir 1 790ProbashircityWebPopupUpdate

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠাঁই হচ্ছে অনেক বাংলাদেশির। উন্নত জীবনের আশায় তরুণেরা মস্কো ও অন্যান্য শহরে যাচ্ছেন সেলসম্যান, সিকিউরিটি গার্ড, বা শেফ হিসেবে কাজের আশায়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে উচ্চ বেতন, নাগরিকত্ব, এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়ার। কিন্তু বাস্তবে সেখানে পৌঁছে তাদের অনেককেই জোর করে সেনা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে মাসে চার লাখ রুবল বেতন এবং যুদ্ধশেষে নাগরিকত্ব। তবে এসব প্রস্তাবে রাজি না হলে মুক্তির পথও বন্ধ করে দেওয়া হয় তাদের।

Resize 350x300x1x0image 296814 1761449415bdjournal

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, ঢাকাভিত্তিক একটি ট্রাভেল এজেন্সি ‘ড্রিম হোম ট্রাভেল’ গত দুই বছরে অন্তত ২০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচার করেছে। তরুণদের প্রতি মাসে ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়, পরে সেখান থেকে রাশিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে এক বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ইউক্রেনের যুদ্ধে পাঠানো হয় তাদের। যারা যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। সিআইডির তথ্যমতে, ওই ২০ জনের মধ্যে অন্তত তিনজন ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আকরাম হোসেন, ময়মনসিংহের ইয়াসিন মিয়া ও নাটোরের হুমায়ুন কবীরসহ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পরিবার। তারা সবাই বিভিন্ন সময় দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান চাকরির আশায়। কেউ ওমরাহ ভিসায়, কেউ আবার মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ হয়ে রাশিয়ায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হয়। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পাঠানোর আগে দালালচক্র প্রতিজনের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছিল।

রাজবাড়ীর সাবেক সেনাসদস্য নজরুল ইসলামও একইভাবে প্রতারণার শিকার হন। শপিংমলে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরির প্রতিশ্রুতিতে রাশিয়া গিয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন। ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।

ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশিদের যুদ্ধের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কেউ ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছেন, কেউ বাংকার খনন করছেন বা যুদ্ধ সরঞ্জাম বহন করছেন। অনেক ভিডিওতে গোলাগুলি ও ড্রোন হামলার দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে সিআইডি। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে—রাশিয়ায় চাকরির লোভে যেন কেউ অজানা দালালের ফাঁদে না পড়ে।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate