ইসলামে বিয়ে একটি পবিত্র ও দায়িত্বপূর্ণ বন্ধন। পারস্পরিক সম্মতি ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে এই সম্পর্ক যত সহজে গড়ে তোলা হয়, তা ভাঙার বিষয়টি অর্থাৎ ‘তালাক’ ততটাই সংবেদনশীল এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত।
ইসলামি শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাজহাবের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াও বিয়ে করতে পারে। অন্যদিকে, অন্যান্য মাজহাবে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিয়ে বাতিল বলে বিবেচিত হয়। ফলে বিয়ে সংক্রান্ত বিধানগুলো বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি জানা জরুরি।
কিন্তু তালাকের ক্ষেত্রে ইসলাম অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। এটি খুব সহজেই কার্যকর হয়ে যায়। তাই এটি কোনো আবেগ-তাড়িত বা হালকা সিদ্ধান্ত নয়। রাগ, মজা বা অবচেতনভাবে ‘তালাক’ উচ্চারণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
আরও
তবে ফিকহ অনুযায়ী, স্বাভাবিক অবস্থায় কেউ ‘তালাক’ উচ্চারণ করলে, তা মুখে বলা হোক বা লিখিত ভাবে, তা কার্যকর হবে। এমনকি বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের মেসেজের মাধ্যমেও ‘তালাক’ লিখলে, তাও ‘তালাক’ দেওয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা স্পষ্ট হয়।
অনেক আলেমের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সরাসরি ‘তালাক’ শব্দ ব্যবহার না করেও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ১ তালাক হিসেবে গণ্য হতে পারে। যেমন— ‘তোমাকে মুক্তি দিলাম’ বা ‘তুমি চাইলে আমাকে ছেড়ে যেতে পারো’, ,‘এই সংসার করবো না’ এই ধরনের বাক্যের ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ১ তালাক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইসলামে তালাকের প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে করা হয়েছে। এক বা দুই তালাকের পর পুনর্মিলনের সুযোগ থাকে, ইদ্দত চলাকালীন বা নতুনভাবে বিয়ের মাধ্যমে। তবে তিন তালাক সম্পন্ন হয়ে গেলে, প্রচলিত ফিকহ অনুযায়ী সেই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আর সুযোগ থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির এই যুগে সম্পর্কের জটিলতা যেমন বেড়েছে, তেমনি তালাকের মাধ্যমও পরিবর্তিত হয়েছে। তাই ইসলামি বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিয়ে যেমন একটি গুরুতর অঙ্গীকার, তেমনি তালাকও একটি গভীর ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত যা কখনোই হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়।










