Opens in a new tab
সর্বশেষ

মেসেজে কবুল বললে বিয়ে বৈধ হয়ে যাবে? ইসলাম যা বলে

69eda86aa43f9Web Popup (3)

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যোগাযোগের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই এখন প্রবলভাবে অনলাইননির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোর মতো অ্যাপগুলোতে লিখিত বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া এবং ‘কবুল’ লিখে সম্মতি জানালে (ইজাব-কবুল) ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সেই বিয়ে বৈধ হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এই বিষয়ের সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। তাঁদের মতে, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো লিখিত মাধ্যমে একপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং অপরপক্ষ তিনবার ‘কবুল’ লিখে তা গ্রহণ করলেও বিয়ে সম্পন্ন হয় না। ইসলামি শরিয়তে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—পাত্র ও পাত্রী অথবা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধিকে একই বৈঠকে বা মজলিসে উপস্থিত থাকতে হবে। ডিজিটাল বার্তার মাধ্যমে সরাসরি উপস্থিতির এই বাধ্যতামূলক শর্তটি পূরণ হয় না বলে এভাবে ইজাব-কবুল করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষী থাকা আরেকটি অপরিহার্য শর্ত। শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব-কবুলের সময় অন্তত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম পুরুষ অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এমনকি পাত্র-পাত্রী নিজেরা সরাসরি দেখা করে একে অপরকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং গ্রহণ করলেও সাক্ষী উপস্থিত না থাকলে সেই বিয়ে বৈধ হবে না। এ বিষয়ে সহিহ ইবনে হিব্বানের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে এরশাদ করেছেন, “অভিভাবক ও দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।”

তবে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ করা জরুরি নয়। যদি জনসমক্ষে বা অনেকের উপস্থিতিতে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ইজাব ও কবুল শুনতে পান, তবে তাঁরাই সাক্ষীর মর্যাদা পেয়ে যাবেন। বিশেষ করে মসজিদে যখন বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়, তখন উপস্থিত সবাই বিয়ের সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন। অর্থাৎ, ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ‘কবুল’ বলা কেবল বিয়ের প্রাথমিক সম্মতি বা আলোচনার অংশ হতে পারে, কিন্তু শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সাক্ষী ও একই মজলিসে উপস্থিত থাকার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে না।

আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup