সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে উড়োজাহাজে স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হওয়া ফটিকছড়ির প্রবাসী মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রকাশ সুমন (৪০) আর বেঁচে নেই। টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ওমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ওমানের মাস্কাট রয়েল হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। নিহত মোহাম্মদ ইলিয়াস সুমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইতনগর গ্রামের মৃত ইস্কান্দারের ছেলে।
পারিবারিক সূত্র ও নিহতের ভাতিজা আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শহরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন সুমন। গত বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শারজাহ বিমানবন্দর থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে রওনা হন তিনি। কিন্তু যাত্রাপথেই মাঝআকাশে হঠাৎ তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে পাইলট উড়োজাহাজটি ওমানের মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।
বিমানবন্দর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে মাস্কাট রয়েল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা চার দিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর সোমবার রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সুস্থ শরীরে দেশে ফেরার কথা থাকলেও তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে।
আরও
নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুমন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। দেশে তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এদিকে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, আনুষঙ্গিক আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ওই প্রবাসীর মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।









