Opens in a new tab
সর্বশেষ
ব্রেকিং

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

Image 307095Web Popup (3)

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা চিরতরে বন্ধে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে কোনোভাবেই গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে, তা পরীক্ষা করে প্রকাশ করা যাবে না বলে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। এর আগে, জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করার বিষয়টি সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্যকে আরও উৎসাহিত করে। এর ফলে ভ্রূণ অবস্থায় কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা একটি সুস্থ সামাজিক ভারসাম্যকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। আদালত জোর দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশের এই চর্চা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং এটি দেশের নাগরিকদের সুরক্ষিত সাংবিধানিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থি।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি কেবল দেশীয় আইনেই নয়, বরং বাংলাদেশ স্বাক্ষরকারী এমন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও বাধ্যবাধকতারও সম্পূর্ণ পরিপন্থি। অনাগত শিশুর লিঙ্গ জানার কারণে কন্যা ভ্রূণ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ সমাজে যেন কোনোভাবেই শিকড় গাড়তে না পারে এবং নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়, সে কারণেই এই কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রায়ে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে হাইকোর্ট আরও বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত মনিটরিং বা তদারকি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার চরম অনুপস্থিতি ছিল। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, শুধু কাগজে-কলমে একটি গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের মতো এই অনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে বাস্তবায়নযোগ্য ও কঠোর নীতিমালা, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি এবং একটি অত্যন্ত কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)