সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। গতকাল সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যার দিকে ঘটা এই আকস্মিক হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশটির দাবি, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার জোর চেষ্টা চালানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, হামলার সময় ইরান থেকে আমিরাতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একযোগে মোট চারটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে আমিরাতের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক বাহিনী অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নজরদারি এড়িয়ে গেলেও সেটি লোকালয় বা স্থাপনার বদলে সরাসরি সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। ফলে মিসাইল হামলা থেকে বড় কোনো ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা গেলেও ড্রোন হামলার কারণে বেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশটি। ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে একটি ইরানি ড্রোন ফুজাইরাহ প্রদেশের ওই নির্দিষ্ট পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়। ড্রোনের আঘাতের পরপরই ওই তেল স্থাপনায় ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে এবং আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সিভিল ডিফেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়।
আরও
এদিকে, তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের খবরও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে সৃষ্ট এই অগ্নিকাণ্ডে স্থাপনায় কর্মরত অন্তত তিন জন কর্মী আহত হয়েছেন, যাঁদের সবাই ভারতীয় নাগরিক। ঘটনার পরপরই আহত এই তিন কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, আহতদের আঘাত মাঝারি ধরনের এবং বর্তমানে তাঁদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়।







