মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী বসবাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুযোগ হিসেবে পরিচিত ‘গোল্ডেন ভিসা’ এখন থেকে মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্যও উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতদিন বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যই মূলত এ ভিসা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে মানব সেবায় নিবেদিত ব্যক্তিরাও এ সুযোগের আওতাভুক্ত হচ্ছেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজ উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ দিতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আমিরাত সরকার। যেসব ব্যক্তি দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন, তাদেরকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের কমপক্ষে পাঁচ বছরের স্বেচ্ছাসেবী অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া, মানবিক কাজে স্বীকৃতি অর্জন বা সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার প্রমাণ থাকলে আবেদনকারীরা আরও বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। মানবিক খাতে ৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তার রেকর্ড থাকলেও গোল্ডেন ভিসার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে।
আরও
এ ছাড়াও দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নিয়োজিত মানবাধিকারকর্মীরাও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের এই বিশেষ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। সরকার বলছে, মানবিক কাজে নিয়োজিত পেশাজীবীদের অবদান গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেই এই নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত সরকারের এ সিদ্ধান্ত মানবসেবা, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে দেশটির সামাজিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।











