Opens in a new tab
সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠাল ইরান, জুড়ে দিল ৭ শর্ত

1776946054275 EranWeb Popup (3)

চলমান প্রলয়ংকরী যুদ্ধের অবসানে এবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক কর্মসূচিবিষয়ক একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে ওয়াশিংটনকে কঠিন সাতটি শর্ত পূরণের আল্টিমেটাম দিয়েছে তেহরান। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই খুলে দেওয়া হবে না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনাতেও বসবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। একই দিন রাশিয়া সফররত ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়িও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার স্বার্থে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের সাতটি শর্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি, তারা এসব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। জানা গেছে, ইরানের দেওয়া এই শর্তগুলোর মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানের মতো দাবিগুলো উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থান হলো, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনাতেই ইরানের পারমাণবিক ইস্যুটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো সম্প্রতি তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা এখনো নাকচ করেনি। অন্যদিকে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে আরও বড় ও ধ্বংসাত্মক পরিসরে পাল্টা হামলা চালানোর কঠোর পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে তেহরান।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের অভ্যন্তরে অতর্কিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাব দিতে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে ব্যাপক মাত্রায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরবর্তীতে এই সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যেও শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। সর্বশেষ এই সংঘাত ইয়েমেনেও বিস্তার লাভ করেছে। সেখান থেকে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একের পর এক ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা গোটা অঞ্চলের পরিস্থিতিকে চরম খাদের কিনারে নিয়ে গেছে।

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)