সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর, ধাহরানের তেল স্থাপনা এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে, এসব স্পর্শকাতর স্থাপনাকে ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে সাধারণ নাগরিক ও কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা।
এদিকে, বুধবার রিয়াদমুখী হুতিদের একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এদিন সৌদি রাজধানীতে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সাময়িক সতর্কতাও জারি করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, আরামকোর সদর দপ্তরে মঙ্গলবারের হামলায় একটি অফিস ভবনের ওপরের তিনটি তলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় সীমিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হননি।
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হুতিদের হামলা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার জেরে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। মূলত ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই লাগাতার আক্রমণ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক সংস্কার ও তেলনির্ভরতা কমানোর মহাপরিকল্পনাগুলোকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।










