ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়ার মূল চাবিকাঠি এখন আরব রাজনৈতিক জোটের হাতে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজ কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন এ দাবি করেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২৬ অক্টোবরের নির্বাচনকে আরব নাগরিকদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাবারিন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু এবং তাঁর কট্টরপন্থী মিত্রদের বাদ দিয়ে বিকল্প কোনো সরকার গঠন করতে চাইলে জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
নিজেদের রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে জাবারিন জানান, আরব সমাজের ব্যাপক ঐক্যের প্রতীক এই জয়েন্ট লিস্ট এখন তাদের রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন সরকারের প্রতি তাঁদের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্দিষ্ট বাজেট ও তদারকির মাধ্যমে অপরাধ দমন, বেআইনিভাবে বাড়িঘর ভাঙা বন্ধ করা, তরুণদের জন্য জমির ব্যবস্থা এবং নেগেভ অঞ্চলের অস্বীকৃত আরব গ্রামগুলোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া। এর পাশাপাশি গাজায় চলমান গণহত্যা, পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন এবং আল-আকসা মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে হামলার বিরুদ্ধেও তাঁরা সরব থাকবেন বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন জাবারিন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যাঁরাই আগামীতে তাঁদের সমর্থন চাইবেন, তাঁদের অবশ্যই আরব সমাজের এসব যৌক্তিক দাবি নিয়ে বসতে হবে।
এদিকে ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমত জরিপও জাবারিনের দাবির পক্ষেই আভাস দিচ্ছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) নেতানিয়াহু জোট বা বিরোধী পক্ষ—কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে বিকল্প সরকার গঠন করতে হলে ইহুদি বিরোধী শিবিরকে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থনের ওপরই নির্ভর করতে হবে। তবে জরিপের ফলাফলে এ-ও দেখা গেছে যে, নতুন সরকারে আরব দলগুলোর অংশগ্রহণ দেশটির অধিকাংশ ইহুদি নাগরিকের কাছেই অপছন্দের বিষয়। চরম মেরুকরণের এই রাজনীতিতে আসন্ন নির্বাচনে আরব জোটের সমর্থনই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।










