একই স্বপ্ন টানা তিনবার দেখার পর পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন সিরিয়ার দেইর আজ-জোর প্রদেশের তরুণ আবদুল্লাহ আল-নায়েফ। দুর্গম মরুভূমির পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এরই মধ্যে পালমিরা শহরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। দেইর আজ-জোরের পশ্চিমাঞ্চলীয় জুগাইর জাজিরা গ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন আবদুল্লাহ। দীর্ঘ ও কঠিন মরুভূমির পথ পেরিয়ে তিনি একনিষ্ঠভাবে মক্কার দিকে এগিয়ে চলেছেন।
আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, তাঁর এই পদযাত্রা কোনো শারীরিক কসরত বা রোমাঞ্চের উদ্দেশ্যে নয়; বরং একটি বিশেষ স্বপ্নই তাঁকে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। যাত্রাপথে ধারণ করা একটি ভিডিওতে আবদুল্লাহ বলেন, একই স্বপ্ন তিনি পরপর তিনবার দেখেছেন। এরপরই পায়ে হেঁটে মক্কায় যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। মক্কায় পৌঁছে ২০০ বার পবিত্র কোরআন খতম করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এই সিরীয় তরুণ।
দীর্ঘ এই পথে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে তাঁর। অনেকেই আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলছেন, যাত্রার কারণ জানতে চাইছেন, আবার কেউ খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এভাবেই অচেনা মানুষদের কাছ থেকে যাত্রাপথে উষ্ণ ভালোবাসা ও সহায়তা পাচ্ছেন তিনি। আল-সুখনা শহরে পৌঁছালে সড়কের নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁকে আতিথ্য দেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁকে নানাভাবে সহযোগিতা করেন। বিশ্রাম শেষে আবারও মক্কার উদ্দেশে অবিরাম হেঁটে চলেছেন আবদুল্লাহ।
আরও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পথচারীরা বিভিন্ন স্থানে আবদুল্লাহকে থামিয়ে কথা বলছেন। তাঁদের কাছে তিনি নিজের যাত্রার উদ্দেশ্য এবং যে স্বপ্ন তাঁকে এই পথে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন।
এরই মধ্যে আবদুল্লাহর এই দীর্ঘ পদযাত্রার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া অনেকেই ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে প্রকাশ করছেন। তবে আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁকে অযথা বিরক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই আধ্যাত্মিক যাত্রাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল ‘ভিউ’ বাড়ানোর উপকরণ হিসেবে ব্যবহার না করে, তাঁকে নির্বিঘ্ন ও শান্তভাবে পথ চলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তাঁরা।










