Opens in a new tab
সর্বশেষ

সরছে ইসরায়েলি বাহিনী, ‘ঘরে’ ফিরছে ফিলিস্তিনিরা

Israeli forces are withdrawing, palestinians are returning 'home'Web Popup (3)

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজার কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা অবস্থান গুটিয়ে নিতে শুরু করে। অন্যদিকে যুদ্ধের বিভীষিকায় গৃহহীন হয়ে পড়া হাজারো ফিলিস্তিনি তাদের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করেছেন।

ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদনের পর এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হবে বন্দি ও জিম্মি বিনিময় প্রক্রিয়া। এতে প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং জিম্মি বিনিময়ের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ত্রাণবাহী শত শত ট্রাক গাজায় প্রবেশ করবে, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।

গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও নুসেইরাত এলাকায় সেনারা তাদের ঘাঁটি গুটিয়ে নিচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে কিছু এলাকায় গোলাগুলির শব্দ এখনো শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র গাজার বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলা এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ না করাই এখন তাদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা জুড়ে ফেরার ঢল নেমেছে বাস্তুচ্যুত মানুষের। ধ্বংসস্তূপে পরিণত ঘরবাড়ি দেখতে বা সেগুলোর পাশে আশ্রয় নিতে হাজারো মানুষ কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে ফিরছেন। কেউ গাধার গাড়িতে, কেউবা ছোট ট্রাকে চড়ে নিজেদের এলাকায় ফিরছেন। যদিও অধিকাংশের ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, তবুও দীর্ঘ যন্ত্রণার পর ফিরে আসাটাই এখন তাদের কাছে একমাত্র স্বস্তি।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগ মুহূর্তে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৭১ জন আহত হন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে গত দুই বছরে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধবিরতির পর প্রতিদিন অন্তত ৬০০ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাবে। পাশাপাশি গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে—জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ঘোষণা করেছেন, মিশরের সহযোগিতায় গাজা পুনর্গঠন সম্মেলনের আয়োজন করবে তার সরকার। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে গাজার পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানো।

আরও দেখুনঃ

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup