Opens in a new tab
সর্বশেষ

বিমান সফলভাবে অবতরণের পরও সকল যাত্রী নিহত!

All passengers killed despite successful landing of plane!Web Popup (3)

১৯৮০ সালের ১৯ আগস্ট, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৬৩ রিয়াদ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ৩০১ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানের কার্গো হোল্ডে ধোঁয়া শনাক্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে রিয়াদ বিমানবন্দরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিখুঁতভাবে অবতরণও করান। তবে এ নিরাপদ অবতরণের পরও ঘটে বিমান চলাচলের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।

বিমানটি রানওয়েতে থামার পর যাত্রী সরিয়ে নেওয়ার বদলে পাইলট ইঞ্জিন বন্ধ ও বিমান সম্পূর্ণ থামাতে অযথা সময় নেন। বাইরে উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত থাকলেও ভেতর থেকে কোনো দরজা খোলার নির্দেশ আসেনি। এই বিলম্বের মধ্যেই আগুন থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া দ্রুত কেবিনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

অবতরণের প্রায় ২৩ মিনিট পর উদ্ধারকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন, যাত্রী ও ক্রুরা নিজ নিজ আসনে নিথর হয়ে বসে আছেন। কারও শরীরে পোড়ার কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু সবাই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ দুর্ঘটনায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ছিল প্রাণহানির মূল কারণ।

ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়। জরুরি অবতরণের পর যাত্রী সরিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় এবং উন্নত অগ্নি শনাক্তকরণ ও দমন ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়। সৌদিয়া ফ্লাইট ১৬৩ আজও সতর্কবার্তা হিসেবে স্মরণ করিয়ে দেয়—একটি সিদ্ধান্তের বিলম্বই হতে পারে শত শত প্রাণহানির কারণ।

বিমান ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত পাইলট, ক্রু, ইঞ্জিনিয়ার ও যাত্রী—সবারই উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে সচেতন ও বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশেই এড়ানো যায়।

আরও দেখুনঃ

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup