৭ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান না আসায় বরিশালের হিজলা উপজেলায় বিচ্ছেদের মুখে পড়েছে একটি সংসার। সন্তান না হওয়ার অজুহাত ও ক্ষোভকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি সালিশ বৈঠকে স্ত্রীর শত আকুতি ও পা জড়িয়ে ধরার পরও মন গলেনি পাষাণ হৃদ স্বামীর। উল্টো নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রীর সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। গত শনিবার (৭ নভেম্বর) হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইতি আক্তারের বাড়ি হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে এবং তার স্বামী রনি খানের বাড়ি পাশের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাবনেরচর এলাকায়। বিয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসার জীবন স্বাভাবিক চললেও কোনো সন্তান না হওয়ায় সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। দম্পতি হিসেবে সন্তান লাভের আশায় তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন এবং দীর্ঘ সাত বছর ধরে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বামী রনি জানতে পারেন যে তার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। মূলত এই একটিমাত্র চিকিৎসাগত সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম পারিবারিক টানাপোড়েন শুরু হয়, যা একপর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়ার দিকে মোড় নেয়। এ বিষয়ে ইতি আক্তার পূর্বে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
ঘটনার দিন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আজগর উভয়পক্ষকে নিয়ে মাসকাটা গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক করেন। উদ্দেশ্য ছিল ভেঙে যাওয়া সংসারটি বুঝিয়ে শুনিয়ে টিকিয়ে রাখা। কিন্তু সালিশ চলাকালীন পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে যখন স্ত্রী ইতি আক্তার স্বামীর পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সংসার বাঁচাতে তিনি বারবার আকুতি জানান এবং স্বামীকে নিজের সিদ্ধান্ত বদলানোর অনুরোধ করেন। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও স্বামী রনিকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রনি খান তার স্ত্রী আর কোনোদিন মা হতে পারবেন না—এই যুক্তিতে অনড় থাকেন এবং কোনোভাবেই সংসার চালিয়ে যেতে রাজি হননি।
আরও
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সংবাদকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের উপস্থিতিতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেনমোহর ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিষ্পত্তির মাধ্যমেই কাজি ডেকে তাদের ‘খোলা তালাক’ সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় এক অসহায় স্ত্রীর আকুতি ও স্বামীর এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সন্তানহীনতার মতো একটি শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার সংসার এভাবে ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলেও গভীর দুঃখ ও অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে।










