আবাসিক এলাকার খুব কাছে একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত নয়জন আরোহী। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্স এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আকাশ থেকে তীব্র গতিতে মাটিতে আছড়ে পড়ার পরপরই লিয়ারজেট ৬০ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি বিশাল এক আগুনের গোলায় পরিণত হয়। তবে উড়োজাহাজটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে মাটিতে থাকা কোনো ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের এই ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটি আক্ষরিক অর্থেই একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশ থেকে তীব্র বেগে মাটিতে নেমে আসতে দেখা গেছে।
Slow motion video of the plane crash in Palm Beach Florida moments ago.
Learjet 60 https://t.co/cwH8thiKtm
আরও
— Brian Krassenstein (@krassenstein) November 1, 2026
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় পাইলট প্রচণ্ড ঝাঁকুনি, বৃষ্টিপাত ও উড়োজাহাজের গায়ে বরফ জমার কথা নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি আরও দুই হাজার ফুট ওপরে ওঠার অনুমতিও চেয়েছিলেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই প্লেনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ গতিতে নিচে নামতে শুরু করে। পাইলট একাধিকবার বিপৎসংকেত পাঠিয়ে জানান যে প্লেনটি প্রতি মিনিটে ৮ হাজার এবং পরে ১০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছে। একপর্যায়ে তিনি ‘মে ডে, মে ডে’ বলে জরুরি বার্তাও পাঠান। পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, পতনের গতি প্রতি মিনিটে ২০ হাজার এবং একপর্যায়ে ৩০ হাজার ফুটে পৌঁছায়, যা প্লেনটির মূল নকশাগত গতিসীমাকেও অতিক্রম করে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে পাইলটের শেষ আর্তনাদ শোনা যায়, ‘আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’ এরপরই উড়োজাহাজটি ডান দিকে তীব্রভাবে কাত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।
উড়োজাহাজটি গ্রিনএকার্স এলাকার একটি ব্যস্ত সড়কের ঠিক পাশেই আছড়ে পড়ে। প্রচণ্ড গতির এই পতনের ফলে সেখানে একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে চারদিকে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি বাড়িঘর ও চলন্ত যানবাহনের খুব কাছাকাছি বিধ্বস্ত হওয়ায় চারপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আশপাশের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটি থেকে প্রায় ৬০০ জন বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। পাম বিচ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সড়কগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
রোববার ওই অঞ্চলে বেশ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সোমবার বিকেল পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে বন্যা সতর্কতাও জারি ছিল। তবে এই প্রবল বৃষ্টি, বরফ জমা ও প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণেই উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এবং এফএএ তাদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।








