টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে নববধূকে ঘরে তোলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিয়ের রাতেই বরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম আয়নাল হক (৩৮)। নতুন জীবনে পা রাখার দিনেই এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ওই পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আয়নাল হক জেলা শহরে ভাড়া বাসায় থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও করতেন। তাঁর প্রথম সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গত জুলাই মাসে তাঁর প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানকে ফেলে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর থেকে সন্তানদের লালন-পালন নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ ও সম্মতিতে বুধবার রাতে পার্শ্ববর্তী খামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা খাতুনের (২০) সঙ্গে আয়নালের দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গভীর রাতে নতুন স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রাম বেলুয়ায় বাবার বাড়িতে ফেরেন তিনি। কিন্তু বাসরঘরের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই গভীর রাতে হঠাৎ তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন, তবে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিয়ের রাতেই এমন মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
আরও
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি মর্মান্তিক এই ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ বা লিখিত আবেদন করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে।










