মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দর দুটির কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলার কড়া জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হুথিদের অস্ত্রাগার এবং সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
সৌদি সামরিক সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই জোড়া বিমানবন্দরে হামলার পরপরই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, সৌদিতে হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইয়েমেনে হুথিদের শক্তিশালী ঘাঁটি সানা ও এর আশপাশের এলাকায় ভারী বোমা বর্ষণ করে সামরিক জোট। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হুথিদের ভারী অস্ত্রের মজুত ও সামরিক স্থাপনাগুলোই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের রণাঙ্গনে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ‘মোখা’ হুথিদের কাছ থেকে পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো থেকে হুথি বিদ্রোহীদের সমূলে উচ্ছেদ করতে ব্যাপক মাত্রায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, সংঘাতের এই নতুন উত্তাপ আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







