মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়েছে চীনের একটি রকেট। গতকাল সোমবার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হাইনানের ওয়েনচাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। রকেটটিতে ‘ঝংজিং ফোর-বি’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ ছিল, যেটিকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করাই ছিল এই মহাকাশযাত্রার মূল উদ্দেশ্য।
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৮টা ২ মিনিটে ‘লংমার্চ সেভেন-এ’ নামের রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উড্ডয়নের মাত্র ৮৫ সেকেন্ডের মাথায় আকাশেই রকেটটি একটি বিশাল অগ্নিগোলকে পরিণত হয়। প্রাথমিকভাবে ‘উড্ডয়নগত ত্রুটি’র কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়ার প্রকাশ করা একটি ভিডিওতেও রাতের আকাশে জ্বলন্ত রকেটটির ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে পড়তে দেখে স্থানীয় মানুষদের বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচিতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট এই প্রকল্পকে প্রায়ই ‘চীনের মহাকাশ স্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। এই বিপুল বিনিয়োগের সুফল হিসেবে গত জুলাই মাসে তারা প্রথমবারের মতো একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়, যা তাদের মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও উৎক্ষেপণ খরচ কমানোর ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। ২০৩০ সালের আগেই চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বেইজিং, যেখানে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশন। তবে স্যাটেলাইটসহ রকেট বিস্ফোরণের এই ঘটনা চীনের সেই নিরবচ্ছিন্ন মহাকাশ অগ্রযাত্রায় একটি সাময়িক ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।










