সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি গুরুত্বপূর্ন ভিডিও সাময়িকভাবে ব্লক হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে মেটা। কারিগরি ত্রুটির কথা বলে মেটা আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইলেও বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না ভারত সরকার। ইতিমধ্যে মেটার ব্যাখ্যার সত্যতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাটির জবাবদিহিতে মেটা ও ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করেছে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ভারতীয় সংবাদসংস্থা আইএএনএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে কয়েক মিলিয়ন বার দেখা প্রধানমন্ত্রী মোদির ওই ভিডিওটি হঠাৎ করেই ভারতে ব্লক করে দেওয়া হয়। সে সময় ভিডিয়োর স্থলে একটি বার্তায় লেখা ওঠে, ‘আইনি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিওটি ওই অঞ্চলে প্রদর্শন করা হচ্ছে না’। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই তীব্র তোলপাড় শুরু হলে ভিডিওটি পুনরায় সচল করে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটির কারণে ভুলবশত কনটেন্টটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আরও
গত ২৩ জুলাই আপলোড করা ওই বিশেষ ভিডিওটিতে ভারতে চলমান নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে জেন-জি প্রজন্মের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি আশ্বাস দেন যে প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন খসড়া আইন তৈরি করা হচ্ছে এবং এই সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ফাস্ট-ট্র্যাক বা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যে মোদি আরও উল্লেখ করেন যে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে দেশের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ রক্ষা পেয়েছে এবং তরুণদের কল্যাণই তাঁর সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
তবে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার ‘ভুলবশত সরানো’র এই যুক্তিতে আশ্বস্ত হতে পারছে না দিল্লি। ভারতের সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনো আইনি আদেশের অজুহাতে কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির আড়ালে প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের ভিডিও কেন ব্লক করা হলো, তা জানতেই মেটার আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণী প্রধানদের ডেকে পাঠানো হয়েছে।










