দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে উন্নত জীবনের আশায় দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার তরুণ মোহাম্মদ ফাহাদ। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁর করুণ মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকার মসিনা শহরে ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের মৃত্যু হয়। নিহত ফাহাদ উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ছেলে। তরতাজা এই তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় ফারুক নামের ঢাকার এক দালালের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার চুক্তিতে ফাহাদকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইথিওপিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন তিনি। এরপর বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে ফাহাদকে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্তের কাছাকাছি একটি স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মসিনা শহরে পৌঁছান। সেখানে দালাল ফারুক একটি ভাড়া বাসায় তাঁকে রেখেছিলেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ওই ভাড়া বাসায় ফাহাদের মৃত্যু হয়। স্থানীয় প্রবাসী নোয়াখালীর বাসিন্দা মারুফ জানান, রোববার আসরের নামাজের সময় পুলিশ এসে ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। মারুফের সঙ্গে ফাহাদের ব্যক্তিগত কোনো পরিচয় না থাকলেও, একজন বাংলাদেশি হিসেবে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। বর্তমানে ফাহাদের দুই মামা দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন এবং তাঁরাই ভাগনের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
আরও
ছেলের এমন করুণ মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ফাহাদের বাবা নুর মোহাম্মদ। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর ভালো ভবিষ্যতের আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এখন জীবিত ছেলের বদলে দেশে তাঁর কফিন আনতে হবে, এই কষ্ট কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর চন্দনাইশের ওই এলাকায় অবৈধ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলা এসব দালালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চরম ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তাঁরা।












