উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের ওয়াদি-ফিরা প্রদেশের ইগোটে গ্রামে একটি পানির উৎস নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া চাদিয়ান প্রেস অ্যান্ড পাবলিশিং এজেন্সির বরাতে গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) এই মর্মান্তিক সংবাদ প্রকাশ করেছে। সামান্য একটি বিবাদের জেরে শুরু হওয়া এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নেয়।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) ওই গ্রামের একটি পানির উৎসের কাছে প্রথমে দুই ব্যক্তির মধ্যে অধিকার নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে এবং তা স্থানীয় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ও প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়। মরুভূমি ও শুষ্ক অঞ্চলে পানির মতো একটি অত্যাবশ্যকীয় ও সীমিত সম্পদের অধিকার নিয়েই মূলত এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে এতগুলো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে চাদের আঞ্চলিক প্রশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাতের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হতাহতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, এ ঘটনায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।” তিনি আরও জানান, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও
চাদের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। মূলত আবাদি জমি, গবাদিপশুর চারণভূমি বা পানির মতো সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রায়ই এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এসব এলাকায় পানিসংকট তীব্রতর হওয়ায় সম্পদের দখল নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ধরনের সংঘাতের শঙ্কা দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে।










