“যস্মিন দেশে যদাচার”—প্রাচীন এই প্রবাদের মতোই বিশ্বজুড়ে মানবসমাজে ছড়িয়ে আছে হাজারো বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও লোকাচার। বিশেষ করে বিয়ে নামক সামাজিক প্রথাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু অদ্ভুত ও বিস্ময়কর রীতি প্রচলিত রয়েছে, যা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে এসব প্রথা অবিশ্বাস্য মনে হলেও, নির্দিষ্ট উপজাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে এগুলো তাদের চিরায়ত সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আফ্রিকা থেকে শুরু করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এমনই কিছু বিচিত্র বিবাহরীতির কথা সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে, যা মানবসমাজের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অনন্য নিদর্শন।
আফ্রিকার সোয়াহিলি উপজাতির মধ্যে প্রচলিত একটি রীতি সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর প্রথা। এই সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী, বিয়ের পর প্রথম রাতে অর্থাৎ বাসর ঘরে নবদম্পতির সঙ্গে কনের মাকেও একই ঘরে রাত্রিযাপন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নবদম্পতির জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা বিছানার নিচে শুয়ে থাকেন মেয়ের মা। মূলত দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা রকম পরামর্শ দেওয়ার জন্যই এই রীতির প্রচলন। কনের মা না থাকলে পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক নারী এই দায়িত্ব পালন করেন। বাসর রাত ঠিকমতো সম্পন্ন হলে পরের দিন তিনিই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন যে, ওই নবদম্পতি ভবিষ্যতে আদৌ সুখী হবে কি না।
শুধু সোয়াহিলি নয়, আফ্রিকার অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও রয়েছে অদ্ভুত সব রীতি। নামিবিয়ার হিম্বা ও ঘানার ফ্রাফ্রা উপজাতির মধ্যে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর পাত্রের পরিবার হবু বধূকে অপহরণ করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সে যাতে পালাতে না পারে, সেজন্য কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করে। কিছুদিন পর পাত্রপক্ষ কনের বাড়িতে তামাক ও ফলমূল নিয়ে হাজির হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ সুদানের নুয়ের জনগোষ্ঠীর বিবাহরীতি আরও কঠোর। সেখানে বিয়ের আগে বরপক্ষ কনের পরিবারকে ২০ থেকে ৪০টি গরু দান করে। শুধু তা-ই নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের আগে কনেকে অন্তত দুটি সন্তানের জন্ম দিতে হয়। সন্তান ধারণে অক্ষম হলে বা একটি সন্তান হলে স্বামী চাইলে সহজেই তাঁকে তালাক দিতে পারেন।
আরও
বিচিত্র এসব লোকাচার শুধু আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ নেই, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও এর দেখা মেলে। যেমন, এশিয়ার বোর্নিওর টিডং নামের এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ের পর অন্তত তিন দিন নবদম্পতির মলত্যাগ বা শৌচাগার ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, যে দম্পতি টানা তিন দিন এই কঠিন নিয়ম মেনে চলতে পারবেন, তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত হবে এবং বিয়ে বেশি দিন টিকবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের এই অদ্ভুত প্রথাগুলো আমাদের আধুনিক সভ্যতার চোখে যতই অবাস্তব মনে হোক না কেন, এগুলো প্রমাণ করে যে মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির পরিধি কতটা বিস্তীর্ণ ও বৈচিত্র্যময়।











