আগামী জুনেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ—বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরু হতে যখন আর দুই মাসও বাকি নেই, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে।
আদালতের নথির বরাত দিয়ে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, মায়ামিভিত্তিক ইভেন্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘ভিদ মিউজিক গ্রুপ’ গত মাসে মিয়ামি-ডেড সার্কিট কোর্টে মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, গত বছর একটি প্রীতি ম্যাচে না খেলে মেসি এবং এএফএ ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
মামলার অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিদ মিউজিক গ্রুপ ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন এবং প্রচারের একচ্ছত্র অধিকার পেতে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার (৭০ লাখ ডলার) প্রদান করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, চোটের কোনো কারণ না থাকলে মেসির প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট খেলার কথা ছিল।
আরও
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মেসি মাঠে নামেননি; বরং স্টেডিয়ামের একটি গ্যালারি স্যুট থেকে খেলা দেখেছেন। অথচ এর ঠিক পরদিনই তিনি নিজের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে শুধু খেলেননি, দুটি গোলও করেন। তাঁর এই দ্রুত সুস্থতা ও ক্লাবের হয়ে খেলা মামলাটিতে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটিতে মেসি খেললেও, ভেন্যু নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। ম্যাচটি মূলত শিকাগোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টিকিট বিক্রি কম হওয়া এবং অন্যান্য লজিস্টিক কারণে শেষ মুহূর্তে এর স্থান পরিবর্তন করে ফ্লোরিডায় নেওয়া হয়, যার ফলে আয়োজকদের আর্থিক ক্ষতি আরও বেড়ে যায়।
ভিদ মিউজিক গ্রুপের দাবি, প্রথম ম্যাচে মেসির অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয় ম্যাচে আশানুরূপ টিকিট বিক্রি না হওয়ার কারণে তারা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যদিও মামলায় নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে তারা এই বিপুল ক্ষতির দায়ভার মেসি ও এএফএ-এর ওপর চাপিয়েছে।
এ বিষয়ে লিওনেল মেসি কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।










