বয়স তাঁর ১২৩ বছর ছুঁয়েছে। শরীরজুড়ে বার্ধক্যের সুস্পষ্ট ছাপ, হাঁটাচলার শক্তিও হারিয়েছেন। কানে ঠিকমতো শুনতে পান না, বয়সের ভারে কাঁপতে থাকে হাত দুটিও। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জীবনের এই গোধূলিলগ্নে এসেও চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্পষ্ট কোরআন তিলাওয়াত করেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্বাস আলী প্রামাণিক। যেখানে আজকাল অল্প বয়সেই অনেকের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, সেখানে শয্যাশায়ী এই শতবর্ষী বৃদ্ধের এমন অটুট দৃষ্টিশক্তি সবাইকে অবাক করে।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী আব্বাস আলীর বয়স ১২৩ বছর হলেও পরিবারের দাবি, তাঁর প্রকৃত বয়স আরও বেশি। সুদীর্ঘ এই জীবনে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতো ইতিহাসের নানা পটপরিবর্তনের নীরব সাক্ষী। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্বাস আলী সারা জীবন বিনা মূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়ে বহু মানুষকে আলোকিত করেছেন। অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপন করা এই মানুষটি কখনো যানবাহনে চড়েননি, সব সময় পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যাতায়াত করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে ছয় ছেলে ও দুই মেয়ের জনক আব্বাস আলীর নাতি-নাতনিদের বয়সও এখন ৬০ বছর পেরিয়েছে। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও কালের পরিক্রমায় এখন তাঁর দিন কাটছে একটি জরাজীর্ণ ভাঙা ঘরে। তবে ছেলেমেয়ে ও নাতি-বউদের পরম মায়া-মমতা ও সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। শারীরিক অসুস্থতা কিংবা বয়সের ভার—কোনো অজুহাতেই তিনি কখনো নামাজ ও ধর্মচর্চা থেকে দূরে সরে যাননি। পরম মমতায় নিজ হাতে পবিত্র কোরআন তুলে নিয়ে এখনো নিয়মিত তিলাওয়াত করে চলেন তিনি।
আরও
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শতবর্ষী এই মানুষটি ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তবে জরাজীর্ণ ঘরে তাঁর এই মানবেতর জীবনযাপন দেখে ব্যথিত এলাকাবাসী। প্রবীণ এই মানুষটি যেন জীবনের বাকি দিনগুলো একটু শান্তিতে কাটাতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তাঁর উন্নত চিকিৎসাসহ একটি বাসযোগ্য সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।











