খুলনার পাইকগাছায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। দেবজ্যোতি চক্রবর্তী নামের ওই যুবক পরে নিজের ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পেয়েছেন। চলমান গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ সংকটে জনজীবনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যার অনাকাঙ্ক্ষিত বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রঞ্জন কুমার সরকারকে মোবাইল ফোনে কল করেন দেবজ্যোতি চক্রবর্তী। এ সময় তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ডিজিএমকে ও পুরো অফিস বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনার পরপরই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৯টার দিকে পৌরসভার বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরদিন রোববার সকালে শর্তসাপেক্ষে মুচলেকা দিয়ে ওই যুবক থানা থেকে মুক্তি পান।
বিদ্যুৎ সরবরাহের এই বেহাল দশা সম্পর্কে ডিজিএম রঞ্জন কুমার সরকার তাঁদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে পাইকগাছা এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় যেখানে ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদা রয়েছে, সেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই গ্রাহকদের পালাক্রমে ৬ ঘণ্টা পরপর মাত্র ১ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় এই চরম ঘাটতি মোকাবিলায় স্থানীয় বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কিছুই করণীয় নেই বলে তিনি দাবি করেন।
আরও
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, মোবাইল ফোনে হুমকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দেবজ্যোতিকে আটক করা হয়েছিল। তবে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি নিজের এই হঠকারী কাজের জন্য ভুল স্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে ভবিষ্যতে এমন বেআইনি কাজ না করার শর্তে লিখিত মুচলেকা দেওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আইনি নিরাপত্তার স্বার্থে পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে থানায় ইতিমধ্যে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।










