Long Popup (2)
সর্বশেষ

১০ বছর পর সৌদি থেকে ফিরলেন ‘মৃত’ আফরোজা

SAUDI NARI 768x402ProbashircityWebPopupUpdate

পরিবারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ‘মৃত’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া সৌদি আরব প্রবাসী আফরোজা আক্তার প্রায় ১০ বছর পর জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ এই সময় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন থাকা মেয়েকে ফিরে পেয়ে বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। দেশে ফেরার পর নিজের ঠিকানা বা পরিবারের সন্ধান দিতে না পারা এই নারীকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের কাছে হস্তান্তর করে এবং পরবর্তীতে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টাতেই পরিবারের কাছে ফিরে যান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দারিদ্র্যপীড়িত সংসারের হাল ধরতে দালালের প্ররোচনায় ২০১৬ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মোহাম্মদ আলী ও ফাতেমা বেগম দম্পতির মেয়ে আফরোজা। প্রথম দেড় বছর পরিবারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তিনি দেশে টাকাও পাঠাতেন। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কেটে যায় প্রায় ৯টি বছর। দীর্ঘ এই সময়ে কোনো খোঁজ না পেয়ে বাবা-মা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা মেয়ে হয়তো প্রবাসেই মারা গেছেন। আফরোজাকে ফিরে পেয়ে তাঁর মা ফাতেমা বেগম স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলেন, “মনে করেছিলাম আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই; আর কোনো দিন ওকে ফিরে পাব না। ওকে ফিরে পেয়েছি, এ জন্য আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।”

সৌদি আরবে কাটানো ভয়াল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আফরোজা জানান, দেশটিতে তিনি গৃহকর্মীর কাজ করতেন। কিন্তু এক বছর পর থেকেই মালিকপক্ষ তাঁর বেতন বন্ধ করে দেয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করে দেয়। পরে সৌদি পুলিশের সহায়তায় গত ১৭ এপ্রিল তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি তাঁকে চিহ্নিত করে। পরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্র্যাকে পাঠালে সংস্থাটির নিবিড় কাউন্সেলিং ও খোঁজখবরের পর তাঁর পরিবারের সন্ধান মেলে।

বিদেশে কর্মরত নারীদের এমন অমানবিক পরিণতির জন্য দূতাবাসগুলোর চরম উদাসীনতাকে দুষছেন সহায়তাকারী সংস্থা সংশ্লিষ্টরা। ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন বলেন, “আমাদের দূতাবাসকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একজন কর্মী যখন চুক্তিতে বিদেশে যান, তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কি না বা তাঁকে নিয়োগকর্তা ছুটিতে পাঠাচ্ছে কি না, তা অনলাইনে মনিটরিং করা প্রয়োজন। তা না হলে আফরোজা আক্তারের মতো এমন ঘটনা চলতেই থাকবে।” ব্র্যাকের তথ্যমতে, দূতাবাসের পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে সৃষ্ট এসব ঘটনায় গত ৮ বছরে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে এভাবেই নিখোঁজ থাকা প্রায় দেড় শতাধিক নারী কর্মীকে পরিবারের কাছে ফিরতে সহায়তা করেছে তারা।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate