দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোলের সঙ্গে আলোচনায় আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আইন ও সংবিধানের আওতায় থেকে যে কেউ রাজনীতি করতে পারে। বিএনপি সবসময় বহুদলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং গণতন্ত্রের পরিসর সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায়। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা পরবর্তী সময়ের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে দায় সংশ্লিষ্ট দলকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমান ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর নির্যাতনের শিকার হয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হয় তাকে। দেশে ফেলে আসেন নিজের ভাই ও মাকে, যাদের পরিণতি আজও কষ্ট দেয় তাকে। তিনি বলেন, “এটা শুধু আমার পরিবারের নয়, হাজারো পরিবারের গল্প—যাদের প্রিয়জন খুন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”
আরও
তারেক রহমান বলেন, যারা অন্যায়, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী—তাদের বিচার হতে হবে। এটি প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দেশের আইন, আদালত ও জনগণ।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক। যারা মানুষ হত্যা, গুম বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে—জনগণ তাদের সমর্থন করবে না। জনগণের শক্তিতেই রাজনীতি টিকে থাকে।”
বিবিসি বাংলার সঙ্গে তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকারের এটি প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী ৭ অক্টোবর, বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে।









