ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ও ভয়াবহ হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিবিড়ভাবে যাচাই করে পুনরায় চালুর উপযোগিতা নিশ্চিত করার পরই ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে কবে নাগাদ বিমানবন্দরটি ফের সচল হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সপ্তাহান্তে টানা এই হামলার কারণে বিমানবন্দরটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর ঠিক আগের দিন শনিবারও একটি যাত্রী টার্মিনালে হুতিদের ভয়াবহ মিসাইল হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। এ ছাড়া রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো শনিবারের ওই প্রাণঘাতী হামলাকে ইতিমধ্যেই ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সৌদি জোট। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি জোটের মধ্যকার এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। এর জের ধরেই মূলত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বিদ্রোহীরা। উদ্ভূত এই চরম অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণেই রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট স্থগিতের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘায়িত করতে বাধ্য হয়েছে।










